প্রেগনেন্সি নারীর জীবন খুব সুন্দর একটা অধ্যায়। এই সময় নারীদের শরীর আর মনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে, যেগুলির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে নারীদের যথেস্ট কষ্ট হয়। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটা মাতৃত্বের একটা অংশ যা অবশ্যম্ভাবী। অথচ এমন একটা সুন্দর ও সেনসেটিভ সময়েও নারীদের শরীর নিয়ে শুনতে হয় নানা অশ্লীল কুটু কথা। বিশেষ করে যখন প্রেগনেন্সির চার মাসে পার হয়ে বেবি বাম্প বোঝা যেতে শুরু করে তখন। 

আমাদের সমাজে নারীদের বেবি বাম্প দেখা যাওয়াটাকে অত্যন্ত লজ্জার একটা বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই তো সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন প্রেগনেন্ট নারীকে বোঝাতে যে বেবি বাম্প খুব লজ্জার বিষয় এটা কাউকে দেখানো যাবে না। যেভাবেই হোক এটা বিষয়টা লুকিয়ে রাখতে হবে। কেউ কেউ আবার কোন নারী বেবি বাম্প কত বড় বা দেখতে কেমন লাগে এই সব নিয়েও সমালোচনা করে থাকে। আর এই ধরনের কথাবার্তা একজন প্রেগনেন্ট নারীকে কতটা আহত করে সেটা কেউ ভেবে দেখে না। অথচ কেউ চাইলেই বেবি বাম্প লুকিয়ে রাখতে পারে না। এটা প্রেগনেন্সির এমনই গুরত্বপূর্ণ একটা অংশ, যা আপাদমস্তক বোরখা পরলেও এটা দৃশ্যমান হবেই। যদিত্ত শরীরের গঠন ভেদে তার তারতম্য থাকে। কিন্তু তার মানে এই না বোঝা যাওয়াটা খুব খারাপ বা লজ্জার বিষয়!

 

ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহকৃত

সে যাই হোক । বেবি বাম্পের মত মাতৃত্ব এই সৌন্দর্যকে বহুকাল মানুষ অত্যন্ত লজ্জা আর কুৎসিত চোখে দেখে এসেছে। নারীরাও নিজেদের বেবি বাম্প যাতে না বুঝা যায় সেজন্য পারতে পারতে কাপড় দিয়ে ওড়না বা চাদর দিয়ে নিজের বেবি বাম্প লুকিয়ে চলাফেরা করে গেছে ।

কিন্তু আজকাল এমন ধারনা পরিবর্তন হতে শুরু করেছে । এখন অনেক মডেল বা অভিনেত্রী , দেশি বিদেশি তারকারা তাদের বেবি বাম্প নিয়ে ফটোশুট করেন । এই বিষয়টা আমার ভালো লাগে , আমি ব্যক্তিগত ভাবে এটাকে পজিটিভ ভাবে নেই । কারণ যে মডেল বা অভিনেত্রীরা সবসময় খোলামেলা পোশাক পড়ে নিজেদের শারীরিক ফিটনেশকে সৌন্দর্য হিসেবে উপস্থাপন করেন সেই তারকারাই যখন নিজেদের মাতৃত্বের শারীরিক পরিবর্তনকে সৌন্দর্য হিসেবে উপস্থাপন করেন সেটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ । তারা সমাজের কাছে এই ম্যাসেজ দেন যে বেবি বাম্পও নারীদের আরেক সৌন্দর্য রুপ। সমাজে যারা বেবি বাম্পকে অসুন্দর বা লজ্জার ভেবে এতদিন লুকিয়ে চলাফেরার জন্য নারীদের চাপ দিতেন, তাদের লজ্জায় ফেলতেন, তাদের সেই প্রাচীন চিন্তায় প্রচন্ড ভাবে আঘাত করা। 

আমাদের বুঝা উচিৎ যে পৃথিবীতে সন্তান জন্ম হওয়ায় একটাই পদ্ধতি আছে , আর সেটা মাতৃগর্ভ। আমাদের সবাইকে মাতৃগর্ভেই মানে ঐ বেবি বাম্প নামক স্থানেই থাকতে হয়েছে । আমাদের মায়েদেরও এত বড় একটা বেবি বাম্প নিয়ে সারা দুনিয়া ঘুরতে হয়েছে। নিত্যদিনের কাজগুলি করতে হয়েছে। তাহলে বেবি বাম্পের মত একটা সুন্দর বিষয় নিয়ে তো লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই , বরং লজ্জা তাদের হওয়া উচিৎ, যারা বেবি বাম্পকে অসুন্দর বা লজ্জার ভাবেন, এবং কোনো নারীর বেবি বাম্প দেখা গেলে ছি ছি করতে করতে ছুটে আসেন।