মায়া অ্যাঞ্জেলোর কবিতা আমার অনুবাদ/আংশিক ভাবানুবাদে

তোমার তিতা বিশ্রী চটকদার মিথ্যা দিয়ে
ইতিহাসে তুমি আমাকে তোমার ইচ্ছে মতোন
হয়তো যেমন খুশি তেমন লিখে রাখতেই পারো
ছুড়ে ফেলতেই পারো ময়লার কোনো এক ভাগাড়ে
কিন্তু জেনে রেখো
ধুলাদের যেমন দমিয়ে রাখা যায় না
কোনো না কোনোদিন বাতাসে তারা উড়বেই
তেমনি নিশ্চিত একদিন ঘুরে দাঁড়াবোই
আমার এই ঔদ্ধত্য দেখে তোমার বুঝি
খুব মন খারাপ হচ্ছে?
“হাঁটাচলার ভঙ্গী এমন যে দেখে মনে হচ্ছে
সে বিশাল কোনো তেলের খনির সন্ধান পেয়েছে
আর সেখান থেকে সরাসরি তেল তার বসার ঘরে পাম্প হচ্ছে!”
এটা ভেবে ভেবে তুমি এভাবে এতটা বিষাদে ডুবে যাচ্ছো?
চাঁদ আর সূর্যের আকর্ষণে
জোয়ারভাটা যে হবেই-এটা যেমন অবশ্যম্ভাবী
হতোদ্যম মনে আশারাও ঘুরে ঘুরে ফিরে আসে
জেনে রেখো
ঠিক তেমনি একদিন ঘুরে দাঁড়াবোই
আমাকে ঠিক কেমনটা দেখতে ভালো লাগে তোমার?
ভঙ্গুর, নোয়ানো মাথা আর আর দৃষ্টি মাটির দিকে
নত হয়ে নিবদ্ধ থাকলে?
আত্মার আর্তনাদে আমার কাঁধেরা এক এক করে কান্নার ফোটার মতোন চুরচুর করে নিপতিত হলে?


আমার এসব উন্নাসিকতা দেখে
ভেতরে ভেতরে ভয়ে খুব কুঁকড়ে যাচ্ছ বুঝি?
অসহ্যকর কঠিন মনে হচ্ছে এসব রংঢং হজম করা?
“এমন ভঙ্গিতে হাসছে যে দেখে মনে হচ্ছে
তার বাড়ির ঠিক পেছনেই যেন সোনার খনি খুঁজে পেয়েছে!”
তুমি আমার শব্দগুলোকে
গুলি করে উড়িয়ে দিতে পারো
আগুনঝরা দৃষ্টি হেনে আমাকে
কেটে কুটিকুটি করে ছিন্নভিন্ন করে ফেলতে পারো
তীব্র ঘৃণায় আমাকে খুনও করতে পারো
তবু জেনে রেখো
বাতাসের মতো একদিন নিশ্চিত আকাশে উড়বোই
আমার এই তীব্র আবেদন তৈরির ক্ষমতা দেখে
বিমর্ষ বোধ করছো কি ভীষণ?
“যে ভঙ্গিতে নাচাকুদা করছে
যেন নিজের উরুর ভাঁজে এক টুকরো
হীরা খুঁজে পেয়েছে-এমনই তার দেমাগ!”
তা ভেবে তব্দা খেয়ে চোয়াল ঝুলে পড়ছে তোমার?
ইতিহাসের যে বন্দীশালায় আটকে রেখে
দিনের পর দিন আমাকে হেয় করেছো
সেখান থেকে বের হয়ে
একদিন নিশ্চিত ঘুরে দাঁড়াবোই
অতীতের সকল যন্ত্রণা থেকে নিজেকে পরিত্রাণ দিয়ে
একদিন নিশ্চিত ঘুরে দাঁড়াবোই
আমি ঘুটঘুটে কালো এক সমুদ্র
যার ঢেউগুলি ফুঁসে ফেঁপে উঠছে প্রতি তরঙ্গে
রাতের সব সন্ত্রাস আর আতঙ্ককে পিছে ফেলে এসে
জেগে উঠছি
আশ্চর্যজনক ফকফকে স্পষ্ট এক সকালে
জেগে উঠছি
পূর্বসূরিদের কাছ থেকে পাওয়া পুরষ্কারস্বরূপ আজ আমি সকল ক্রীতদাসের মুক্তির স্বপ্ন ও আশার প্রতীক
দেখো,
আমি জেগে উঠছি
আমি জেগে উঠছি
আমি জেগে উঠছি
(আগেও এটা অনূদিত হয়েছে। আমি আমার মতো করলাম।)