“বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ” – খুবই বিচ্ছিরি শোনায় এবং এই মর্মে মামলা করা যায় আরো বিচ্ছিরি ব্যাপার।
এখন এই রকম একটা টার্ম কেন এক্সিস্ট করতেছে সেই ব্যাপারে একটু ভাবি চলেন।
“বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ” এই রকম অভিযোগ তো কোনো মেয়ের বিরুদ্ধে কোন ছেলে আজ পর্যন্ত করে নাই। এইটা তো শিওর। এই পুরুষতান্ত্রিক সোসাইটিতে কখনও করবেও না।এইটাও শিওর। এর কারণ কি? নিশ্চয়ই এর পিছনে কারণ আছে।
একদম প্রধান কারণ হইতেছে, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সতীত্ব কেবল মেয়েদের বেলায় বিবেচিত হয়, ছেলেদের সতীত্ব নিয়া কোনো প্যারা নাই।
বায়োলোজিক্যালি কামনা বাসনা ছেলে -মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তো ছেলে-মেয়ে যখন প্রেম করে তখন তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হওয়াও স্বাভাবিক। আমাদের মত সোসাইটিতে শারীরিক সম্পর্কে যেতে মেয়েদের চাইতে ছেলেদের আগ্রহটাই বেশি থাকে সাধারণত। কারণ প্রত্যেকটা ছেলে জানে এই সমাজ তারে কখনো সতীত্বের বাটখারা নিয়া মাপতে আসবে না এবং প্রেগন্যান্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ও তার নাই, সে এক বা একাধিক মেয়ের সাথে যৌন সম্পর্কে জড়ালেও কোনো সমস্যা নাই, সুতরাং নো টেনশন ডু ফুর্তিতে সে যৌন সম্পর্কে জড়াইতে বেশি আগ্রহী থাকে।
অন্যদিকে শারীরিক চাহিদা বা কামনা বাসনা থাকা সত্ত্বেও মেয়েরা সহজে যৌন সম্পর্কে যেতে চায় না।কারণ প্রত্যেকটা মেয়ে জানে এই সমাজ তারে সতীত্বের বাটখারায় এমনভাবে মাপবে যে একটু উনিশ-বিশ হইলেই তার জীবন ঝালাপালা হয়ে যাবে। তাছাড়া প্রেগন্যান্সির ভয়টাও তার মাথায় থাকে। এমনকি যেই ছেলে বা প্রেমিকের সাথে সে সেক্স করবে সেই ছেলেই একদিন বলবে, ” বিয়ের আগেই তুই আমার সাথে যখন শুইতে পারছিস তাইলে তো সব পোলাগো লগেই পারবি বা পারছিস, অতএব তোর মত খানকি বেশ্যারে বিয়া করার প্রশ্নই আসে না” এই কথাও মেয়েরা জানে ! এছাড়াও বিয়ের পরে বউ ভার্জিন কী না সেই পরীক্ষাও এই সোসাইটিতে হয়। বউ ভার্জিন না এটা প্রমাণিত হইলে সাথে সাথে ডিভোর্স, অথবা জামাই দয়া কইরা ডিভোর্স না দিলেও লাইফ টাইম বউয়ের সুখ শান্তির বিষয় আষয় একদম শ্যাষ। সারাজীন তার খোটা খাইতে হবে,মানসিক যন্ত্রণার ভিতর দিয়া যাইতে হবে। অথচ জামাই ১০০ টা শারীরিক সম্পর্ক কইরা আসলেও কোনো প্যারা নাই, জামাই ভার্জিন কী না এই প্রশ্নই তো অমূলক!
তো এই রকম একটা সামাজিক ব্যবস্থায় এই সমস্ত ভয়,দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও ছেলের পীড়াপীড়িতে বা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে এই বিশ্বাসে বা এই প্রতিশ্রুতিতে মেয়েটা শেষ পর্যন্ত যৌন সম্পর্কে যায় যে এই প্রেমিক তারে বিয়ে করবে তাহলে সতীত্ব সম্পর্কিত এই সমাজ কর্তৃক তার মগজে আরোপিত দুশ্চিন্তা থেকে সে মুক্তি পাবে। তাছাড়াও যে সম্পর্কে মেয়েরা সৎ থাকে বা সত্যি সত্যি ছেলেটাকে ভালোবাসে কেবল সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রেই মেয়েরা শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত যায়।
তো এই রকম ঘটনার পরে যখন ছেলেটা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মেয়েটাকে বিয়ে না করে তখন সামাজিক, শারীরিক, মানসিকভাবে মেয়ের মাথা যায় নষ্ট হয়ে, হওয়াই স্বাভাবিক। আর সোসাইটিতে জানাজানি হয়ে গেলে তো কথাই নাই, ছেলে বিন্দাস ঘুরে বেড়ায় আর মেয়ের জীবন তেজপাতা হয়ে যায়। আর যখন এইটা প্রমাণিত হয়ে যায় যে ছেলেটা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়া শারীরিক সম্পর্ক করছে তখন ওই শারীরিক সম্পর্করে ধর্ষণ মনে হওয়াটাও খুব একটা অযৌক্তিক না।
তখন কোনো মেয়ে সুইসাইড করে, কোনো মেয়ে প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে চেপে যায়, কোনো মেয়ে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধস্বরূপ মামলা করে। যেহেতু এই মর্মে মামলা করার ব্যবস্থা রাষ্ট্র তার জন্য রাখছে। ব্যবস্থা না থাকলে তো আর পারতো না।
কিন্তু এই পুরো ঘটনাটা তো আসলে ধর্ষণ না, মামলা করলে প্রতারণার মামলা করা যায়। কিন্তু আইনে মানসিক কষ্ট বা মানসিক ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে তেমন কোনো বিচার আচারের ব্যবস্থা সম্ভবত নাই। প্রতারণার মামলা করা যায় সম্ভবত তবে সেটা খুব একটা শক্ত মামলা না বা এতে তেমন কোনো ফল পাওয়া যায় না বোধ হয়। আমি আইনজ্ঞ না, তাই এ ব্যাপারে ক্লিয়ার ধারণা নাই। যাদের ধারণা আছে তারা জানালে কৃতজ্ঞ হবো।
তো “বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ” – মর্মে যারা মেয়েদের তিরস্কার করে যাইতেছেন তারা দয়া করে পুরো সমাজ ব্যবস্থাটার কথা একবার বিবেচনা করবেন তারপর সমালোচনা করবেন।
শরীরজনিত ব্যাপারে এই সমাজে একটা মেয়ের অবস্থান একটা ছেলের সমান পর্যায়ে না আনা পর্যন্ত এই সমস্ত শারীরিক বিষয়ে মেয়েদের ঠাট্টা মশকরা বা সমালোচনা করার আগে আপনার বিবেক বিবেচনা জাগ্রত কইরা পুরো সমাজ ব্যবস্থাটার উপর একবার চক্কর দিয়া আসবেন তারপর সমালোচনা করবেন। ওক্কে?
বাই দ্য ওয়ে, “বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ” এই টার্মে আমি কিন্তু একদমই বিশ্বাসী না। আমি শুধু যে কারণে এই রকম একটা টার্ম এই সমাজে এক্সিস্ট করতেছে সেই কারণগুলা সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম,তারপরও লেখা বড় হয়ে গেলো!
আমি চাই এই সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন হোক। আইনের এই ধারা পরিবর্তন হোক। মেয়েদের সাইকোলজি এমনভাবে গড়ে তোলা হোক যাতে তাদের এই রকম মামলা না করতে হয়। কোনো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্কে না যাওয়া লাগুক। সত্য, সততা, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সব জেনে বুঝে মেনে যৌন সম্পর্ক হোক।
এই রকম একটা অসম, অন্যায্য সমাজ ব্যবস্থা দ্বারা মেয়েদের মানসিকতা, সামাজিক অবস্থা এক রকমভাবে গইড়া তুলবেন আবার যখন সেই সামাজিক অবস্থা ও মানসিকতার কারণে মেয়েরা কোনো পদক্ষেপ নিতে যাবে সেইটা নিয়া হাসি তামশা করবেন,
দিজ ইজ নট ফেয়ার, দ্যাটস ইট ইউর অনার।