হ্যা তারা নারীদের নিকট মায়ের মতই…..

তারা নারীদের নিজ সন্তান জ্ঞান করে লালন পালন করে। মায়েরা যেমন বাচ্চার জন্য উপযুক্ত ড্রেস নির্ধারণ করে, এদেশের পুরুষেরাও মায়ের মতন পরম মমতায় মেয়েদের ড্রেসকোড নির্ধারণ করে দেয়। তারা মেয়েদের হাড়ভাঙা খাটুনির দৃশ্য দেখে মর্মাহত হয়, তাই মেয়েদের কাজ করতে নিষেধ করে। প্রশ্রয় দেয়া মায়ের মতন নারীদেরকে পুরুষের ঘাড়ে বসে খাওয়ার বুদ্ধি দেয়। পড়ালেখার মতন কঠিন ও বিরক্তিকর কাজেও যেন নারীরা নিজেদের সুকোমল সত্তার বিনাশ না করে, তাই অনেক অনেক পুরুষ মহারথী নারীদের ফাইভ সিক্স পর্যন্ত পড়তে বলেন। তারা মায়েদের মতন নারীদের শাসনও করেন যেন নারীরা বখে না যায়। মায়েরা যেমন বাচ্চাদের আঘাতের কথা শুনে আগে বাচ্চাকে দুইটা মাইর দিয়ে বলে, ‘তুই ওইখানে গেলি কেন’, ঠিক তেমনি পুরুষেরাও নারীদের বিপদ, আঘাত ও নির্যাতনের খবর শুনলে মায়েদের মতনই বলে ওঠে, ‘ওইখানে গেল কেন? কী ড্রেস পরছিলো?’,,,, ব্লা ব্লা

শুধু কি তাই! মায়েরা যেমন নিজ সন্তানদের পুত পবিত্র ও দুধে ধোয়া তুলসীপাতা ভেবে তৃপ্ত থাকে, পুরুষেরাও তাই। এরাও নারীদের সতী, পতিব্রতা, নেশাহীন, সংসারী,,, ব্লা ব্লা বিশেষণ দিয়ে নারীদের সাজাতে ভালোবাসে। এক নারীর মধ্যেই জ্ঞান, আনুগত্য, সতীত্ব, আধুনিকতা, মমতা, তেজ, কঠোরতা, সহনশীলতা, শিক্ষা, সংসারমনা, কর্মঠ ও ঘরোয়া সহ সব আশার প্রতিফলন ঘটাতে চায় ক্রেজি মায়েদের মতই। ক্রেজি মায়েরাও তাদের সন্তানের উপর সব যোগ্যতা আরোপ করতে চায়।

মায়েরা যেমন নিজ স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতন থাকে কিন্তু সন্তান দুটো হাচি দিলেই উতলা হয়ে যায়, তেমনি পুরুষেরাও নিজেরা মদ, গাজা, ইয়াবা খেয়ে ভেসে গেলেও ততটা কষ্ট অনুভব করে না, আতংকিত হয়না, যতটা হয় নারীকে সিগারেট টানতে দেখলে। মমতাময়ী মায়েদের মতই তখন তারা ভীত ও শংকিত হয়, কান্না করে, চিৎকার করে।
বিয়ের মতন কঠিন বিষয়েও পুরুষেরা নারীকে দিয়েছে অশেষ ছাড়। একজন পুরুষ নিজের ঘাড়ে সংসারের মতন জটিল বোঝা তিন চারটা করে চাপালেও, নারীর কোমল ঘাড়ে একটার বেশি চাপানোকে সমর্থন করে না, বরং ঘৃণা করে। কোন নারী যদি বারবার বিয়ে ও ডিভোর্সের মধ্য দিয়ে যায়, তারা সেই নারীকে গালাগাল করে মায়ের মতন। আমাদের মায়েরা যেমন বারবার জামা পাল্টালে বিরক্ত হতো, তেমন আর কি!

পুরুষেরা গালাগালিতেও মায়েদের মতন প্রেমময়। তারা প্রেয়সী, অপ্রেয়সী, শত্রু, মিত্র বা যেকোন নারীর মধ্যে প্রেম বা ঘৃণার যা কিছুই খুজে পাক না কেন, সবক্ষেত্রেই উপহার বা শাস্তি হিসাবে যৌনশান্তিময় প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দেয়। মায়েদের গালিতেও আদর থাকে, পুরুষদেরও তাই। নিগূঢ়ভাবে দেখলে গালিতেও আদরের প্রস্তাবই ঘুরেফিরে আসে।
অর্থাৎ, প্রকৃত বিশ্লেষণে আপনি বেশিরভাগ পুরুষকেই নারীদের মা হিসাবে খুজে পাবেন। তাই ত এত বিধি নিষেধ, অমুক সময় ঘর থেকে বের হওয়া যাবেনা, অতটুকু শব্দে হাসা যাবেনা, ততটুকু শব্দে কাশি দিতে হবে, সূর্যাস্তের আগে ঘরে ফিরতে হবে,,,, ব্লা ব্লা কথা ত নারীর নিরাপত্তার কথা ভেবেই!

আপনি যদি এই লেখাটি পড়েন আর পুরুষ হন তাহলে মিলিয়ে দেখুন আপনি আমার কত পার্সেন্ট মা! কারো যদি শতভাগ মিলে, সে শতভাগ মা। কারো ৭৫, ৫০, ২৫% মিললে সে ৭৫, ৫০, ২৫% মা!