কেবল পরীমনি কেন? সকল নির্যাতিত মেয়েকে নিয়েই সমাজ বিভক্ত হয়ে গেছে সব সময়েই। পরী একজন গ্রামের কম শিক্ষিত মেয়ে।। অসাধারণ সুন্দরী বলেই অনেক চঁড়াই-উৎরাই পার করে আমাদের চলচ্চিত্রে একটি জায়গা তৈরি করেছে। এটুকু বুঝতেই পারা যায় এই ভ্রমণ ওর জন্য সহজ বা কন্টকমুক্ত নয় মোটেই। পরীর নিজস্ব কিছু ভুল অথবা ইচ্ছে, সেটি ওর ব্যক্তিগত। যেসব নিয়ে মুখরোচক গসিপ এর মধ্যেই অনেক গুণধরেরা দিচ্ছেন।

তাইতো দিবেন।। কারন পরী একজন নারী।। পরীর নিজের ইচ্ছে অনিচ্ছে বা স্বাধীনতার থোরাই কেয়ার করা যায়? হতেই পারে সেটি আমাদের মুল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক।। কিন্তু এটি একদম ওর নিজস্ব চয়েজ।

পরী রাত বারোটার পর কেন ক্লাবে গেছে তাইতো?

ক্লাবে যে রাত বারোটার পর ভদ্রলোকেরা থাকে না সে তো আপনাদের কথাতেই স্পষ্ট।। এইযে ভদ্দন নোক পরীকে অপমান করেছে, মেরেছে – এই লোক রাত বারোটার পর কেন তার এত্ত সুন্দর সংসার রেখে, সামাজিক মর্যাদার তোয়াক্কা না করে, প্রতিপত্তি উপেক্ষা করে ক্লাবে কি তাহাজ্জুদ পড়তে এসেছিলেন? আর পরীর সাথে কি উনি হাদিস কালাম নিয়ে রিসার্চ করছিলেন? এই দেবতা আদমীর পক্ষে ততোধিক দেবী টাইপের নারীদের মমতার শেষ নেই।। মায়ার চোটে দেবতাটিকে নির্দোষ প্রমাণ করতে নিজেদের পারিবারিক পরিচয়ের ঘনঘটা প্রদর্শনেও ব্যস্ত।। তাতে কি একটি মেয়েকে মেরে তার দাঁত নাড়িয়ে দেয়া অপরাধ হালকা করা যায়? এই যে পুরুষ পতিতা যে লোকটি বা লোক গুলো, নারীদের রাত বিরেতে ভাড়া করে তারা কি তুলশী তেরি আঙ্গন মে?

কেউ কেউ আবার বলছে, চলবে পাশ্চাত্য স্টাইলে, কাঁদবে ফিলিস্তিনিদের মত, আর বিচার চাইবে সৌদী হুকুমতের মত। হায় এরা কত অন্ধকারাচ্ছন্ন। পাশ্চাত্যের মত চললেই তাকে বুঝি অপমান করার অধিকার আছে? একজন নারী তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অপরাধের বিচার চাইলে সৌদী টেনে এনে নিজের দেশের আইনকেও অপমান করেন? এবং একজন নারীর অধিকার ও মর্যাদার তো বটেই, এমন কি তার নাগরিক অধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, তাকে কোনঠাসা করার চেষ্টা করেন?

লেখিকা

পক্ষান্তরে এরা সবাই ধর্ষণ বা নারীকে অপমানের পক্ষ অবলম্বন কারি এক একজন কিম্ভত ডাইনোসর। কেউ কেউ আবার পরীর সংবাদ সম্মেলনের পুরো চালচিত্র ব্যাখ্যা করেছেন।। পরী কিভাবে বসেছে, কিভাবে কথা বলছে, কি ভাষায় কথা বলছে, কিভাবে তাকাচ্ছে, তখন পরীর পোশাক কি ছিল, পরীর পাশে কে ? এমন কি পাশে যে চয়নিকা পরীকে আশ্রয় দিচ্ছে সেটিও ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনা করে নিজেদের দক্ষ সাংবাদিক বা জ্ঞানী জাহির করে। এবং এই প্রসঙ্গে সবার আপত্তির কারনেও নিজে নির্ভুল এবং মহা অনুসন্ধিৎসু জ্ঞান করে।


আর কিছু পুরুষ যারা সাধুনং শুচিনং তাদের কথা তো তথৈবচ।। এরা তো ভাগবাটোয়ারা বা টাকার গড়মিল হিসেবের কথা তুলে পরীকে আর এক কাঁঠি অপমান করতে ছাড়েনা যেন পরী যদি অর্থের বিনিময়ে যেয়েও থাকে তবে ওদের চৌদ্দগুষ্টির অধিকার, ওরা যাচ্ছেতাই করতে পারে?

বার বার দেখেছি লাঞ্ছিত মেয়েটির বিষয়ে আমাদের সমাজে একটি বৃহৎ শ্রেণী ক্রুর আনন্দের সাথে জুলুমকারির পক্ষ নেয়। একজন ধর্ষিতা মেয়েকেও শুনতে হয়, পোশাক বা সময় অথবা স্থানের কথা।। বা তুমিই কেন ধর্ষিত হলে? আমাদের দেশে ধর্ষণ একটি জায়েজ অপরাধ তাদের কাছে।

আমার শেষ কথা হচ্ছে, একটি মেয়ে যখন অভিযোগ করছে তখন তার পাশে থাকুন। মেয়েটির ব্যক্তিগত বিষয়াদি নয় বরং মেয়েটির আত্মবিশ্বাস ও লড়াইয়ের জন্য মানসিক ভাবে সাথে থাকুন। এবং সুষ্ঠ বিচার পেতে সাহায্য করুন। কারও অপমান আপনার সুযোগ হতে পারেনা। অন্যায়ের পক্ষে থাকলে একদিন আপনাকেও এর বুমেরাং এ পরতে হবে।
হ্যাঁ মেয়েটির বক্তব্য যদি মিথ্যে হয়, সেটি তো সময় এবং তদন্তে বেড়িয়েই আসবে। তার আগে কেন ?