Over one million women face domestic violence in Egypt

মিশরীয় বেশ কয়েকজন নারী স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিবিসি বিষয়টা নিয়ে প্রতিবেদন করেছে, আরও কয়েকটা পত্রিকায় সেটা কপি করা হয়েছে। কমেন্টবক্সে দেখলাম চিরাচরিত নিয়মে ‘হুজুর’, ‘ধর্মপরায়ণ’ লোকজন খুব সোচ্চার যে, বৈবাহিক ধর্ষণ আবার কী! বৈবাহিক ধর্ষণ বলতে কিছু নাই… পবিত্র সম্পর্ককে অপবিত্র করার প্রয়াস ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রশ্ন হলো, কোনো নারী যদি স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত হন, তাকে যদি বেঁধে প্রহার করা হয়, গায়ে দাগ ফেলে দেওয়া হয়, বিয়ের রাতেই অপ্রস্তুত, অনাগ্রহী অবস্থায় যৌনসঙ্গমে বাধ্য করা হয় এটাকে ‘ধর্ষণ’ যদি নাও বলা যায়, এটা কি জুলুম নয়? এটা কি আল্লাহর নির্দেশ মুআশারা বিল মা’রুফ বা ইমসাক বিলমা’রুফের লঙ্ঘন নয়? কুরআনে আল্লাহ খুব স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ‘স্ত্রীকে হয় উত্তমভাবে রাখো অথবা উত্তমভাবে বিদায় দাও।’ বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে তার ওপর জুলুম করার ইখতিয়ার কি স্বামী পায়?

আপনারা ‘ধর্ষণ’ বলতে বা ধর্ষণের শাস্তি এই ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে রাজি না মানলাম, কিন্তু এ সব জুলুমের বিরুদ্ধে আপনাদের বক্তব্য কোথায়, আলাপ কোথায়? অনেকে তো আবার এসব জুলুম নির্যাতনের পক্ষে হাদীসের অপব্যাখ্যাও হাজির করে। এই হাদীসটা দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ‘যদি স্ত্রী স্বামীর আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহলে সকাল পর্যন্ত তার ওপর ফেরেশতারা লা’নত করে।’ অথচ এখানে স্ত্রীকে স্বামীর আহ্বানে সাড়া দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। স্বামীকে নিজের কথিত অধিকার বুঝে নিতে বলা হয় নাই। স্ত্রী তার আহ্বানে সাড়া না দিলে স্বামী যে জোর করতে পারে না বা কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ যে এই কাজ করে না সেটাও এই হাদীসে স্পষ্ট।কুরআন হাদীসে সরাসরি বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে বৈবাহিক সম্পর্ক স্বামী স্ত্রীর উভয়ের যৌথ সম্মতি এবং বোঝাপড়ার ব্যাপার। উভয়ের সম্মতি ছাড়া বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি হয় না, টিকেও থাকে না। দুইজনের সম্মতিতে যে সম্পর্ক টিকে থাকে, সেখানে এ রকম কিছু ঘটারই কথা না আসলে। কিন্তু এত জন নারী যেহেতু নিজেদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা বলছেন, এ রকম কিছু ঘটনা নিশ্চই ঘটছে।

এটা নানা কারণে হতে পারে। অবাধ পর্ণোগ্রাফির কারণে এখন অনেক পুরুষের যৌন-মানসিকতা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অনেক অঞ্চল ও সমাজে বিয়ের ব্যাপারে নারীর সম্মতির ব্যাপারটি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নারী নিজের অক্ষমতা ও দুর্বলতার কারণে বিবাহ-বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। কুরআন হাদীসে সরাসরি এই বিষয়ে কোনো আলোচনা না থাকলেও অন্য অনেক বিধান থেকে বোঝা যায় এই বিষয়ে শরিয়তের অবস্থান বা দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে। যেমন ইসলামী আইনে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া আযল (সঙ্গমের সময় বীর্যপাতের আগেই বিশেষ অঙ্গ বের করে ফেলাকে আযল বলে। এটা জন্ম নিয়ন্ত্রণের একটা প্রাচীন রীতি) করা বৈধ না। কারণ এতে স্ত্রী পূর্ণ যৌনআনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এ বিষয়ে সরাসরি হাদীস, সাহাবী এবং ফকীহদের স্পষ্ট বক্তব্য আছে।যে দীন স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া আযল নিষিদ্ধ করেছে, সেই দীন কি স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া সহবাস অনুমোদন করতে পারে? রসূল সা. স্ত্রীদের স্বামীর আহ্বানে সাড়া দিতে উৎসাহিত করেছেন। এ থেকেও কি প্রমাণিত হয় না যে, সাড়া দেওয়া না দেওয়া একান্তই তার ইচ্ছাধীন ব্যাপার? সর্বোপরি কুরআনে মুআশারা বিল মা’রুফ, ইমসাক বিল মারুফের নির্দেশ তো রয়েছেই।আর বিবিসির ওই প্রতিবেদনে যে সব নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এর অনেকগুলো তো দণ্ডনীয় অপরাধ; ধর্ষণ বা নির্যাতন যাই বলা হোক।